
সাহারুল ইসলাম, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বর্তমানে তীব্র জনবল ও চিকিৎসক সংকটসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। ৫৮ বছর পর ২০২৩ সালের নভেম্বরে হাসপাতালটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও আধুনিক চিকিৎসা সেবার ছিটেফোঁটাও মিলছে না এখানে।
বর্তমানে পুরো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা ব্যবস্থা মাত্র ৩ জন চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করে চলায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার দেখা যায়, বহির্বিভাগে শত শত রোগীর দীর্ঘ সারি থাকলেও সেখানে মাত্র একজন চিকিৎসক রোগী দেখছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে চিকিৎসা না পেয়ে অনেক রোগী ও স্বজনদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। উপজেলার প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৪৮ জন মানুষের জন্য এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বর্তমানে একেবারেই অপ্রতুল হয়ে পড়েছে।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান শাখা সূত্রে জানা গেছে, পুরাতন ৩১ শয্যার অবকাঠামোতেই কোনোমতে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। নবনির্মিত ভবন চালু হলেও ৫০ শয্যার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল এখনো অনুমোদন পায়নি। বর্তমানে ৩১ শয্যার জন্য বরাদ্দ থাকা ১২টি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদের সবকটিই শূন্য। মোট ১২২ জন জনবলের স্থলে কর্মরত আছেন মাত্র ৭৪ জন; অর্থাৎ ৪৮টি গুরুত্বপূর্ণ পদই খালি রয়েছে।
স্যানিটারি ইন্সপেক্টর, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার থেকে শুরু করে আয়া ও বাবুর্চির পদগুলোও শূন্য থাকায় প্রশাসনিক ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অপারেশন থিয়েটার চালানোর জন্য ভাড়ায় অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট আনতে হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৫০০-৬০০ জন রোগী বহির্বিভাগে এবং অর্ধশতাধিক রোগী আন্তঃবিভাগে চিকিৎসা নিতে আসলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও স্টাফ না থাকায় অনেকেই মেঝেতে থেকে সেবা নিচ্ছেন।
ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সোলায়মান মেহেদী হাসান জানান, জনবল সংকটের বিষয়টি বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ৩১ ও ৫০ শয্যার উভয় কাঠামোতেই জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা জরুরি। দ্রুত এই সংকট নিরসন করা না গেলে বৃহৎ এই জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পর্যাপ্ত জনবল না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যমান স্টাফদের নিয়ে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস এখনো মেলেনি।
এম.এম/সকালবেলা